দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতীয় বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক-শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।
কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। জন্মগ্রহণ করেন গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন হলেও কখনো হার মানেননি জীবনের কাছে। বাহ্যিক দৃষ্টি না থাকলেও অন্তর্দৃষ্টিতে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন জীবন ও মানবতার গভীর সত্য।
শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন বাউল সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতার গান-“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি…”, কিংবা তারঁ কণ্ঠে ভীষণ জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’!
তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও জীবনের দর্শন। তিনি শুধু সংগীত পরিবেশন করেননি, মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সারাজীবন।
দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন কানাই দাস বাউল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংগীত ও বাউল জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘কানাই বাবা’-একজন সাধক, পথপ্রদর্শক এবং আত্মার শিল্পী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাই দাস বাউলের প্রয়াণ অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর গান, দর্শন ও সাধনা বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
কে